সংকর ধাতু বা ধাতু সংকর – উপাদান ও ব্যবহার

সংকর ধাতু বা ধাতু সংকর

সংকর ধাতু বা ধাতু সংকর সম্পর্কে আলোচনা করার আগে আমরা একটু দেখে নিয়ে সংকর ধাতু বা ধাতু সংকর সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

সংকর ধাতু বা ধাতু সংকর কাকে বলে ?

একাধিক ধাতুর সাধারণ মিশ্রনের ফলে উৎপন্ন সমসত্ব ও অসমসত্ব কঠিন পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। উল্লেখ্য যে, শংকর ধাতুতে এক বা একাধিক অধাতুও মিশ্রিত থাকতে পারে। যেমন ইস্পাত লোহা ও কার্বনের মিশ্রণে তৈরি সংকর ধাতু।

উদাহণ : তামা ও দস্তা সংমিশ্রণের ফলে উৎপন্ন পিতল একটি সংকর ধাতু।

সংকর ধাতুর গুরুত্ব

  1. ধাতুর কাঠিন্য বাড়াবার কাজে সংকর ধাতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  2. ধাতুগুলির সাপেক্ষে সংকর ধাতুর তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা বাড়ানো বা কমানো যায়।
  3. নমনীয়তা, সম্প্রসারণশীলতা, ঘাত সহনশীলতা, ঘনত্ব ইত্যাদি সংকর ধাতু ব্যবহার করে এর উপাদানের ধাতুগুলির তুলনায় বাড়ানো, কমানো যায়।
  4. জল প্রভৃতির ক্রিয়া দ্বারা ক্ষয় নিবারণের জন্য।
  5. জারণ ক্রিয়া কমানোর জন্য সংকর ধাতু ব্যবহার করা হয়।

সংকর ধাতুর বৈশিষ্ট্য

  1. ধাতু সংকর হলো দুই বা ততোধিক ধাতুর একটি সাধারণ মিশ্রণ।
  2.  ধাতু সংকরের মিশ্রণটি সমসত্ব ও অসমসত্ব এই দুই রকমের হতে পারে।
  3.  কোন কোন সময় এক বা একাধিক ধাতুর সঙ্গে কার্বন, সিলিকন, ফসফরাস প্রভৃতি অধাতু যুক্ত হয়েও ধাতুসংকর তৈরি হয়।
  4.  ধাতু সংকর তার উপাদান ধাতু গুলোর থেকে বেশ কয়েকটি আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়।
  5.  সংকর ধাতু গুলির কাঠিন্য তার উপাদান মৌলগুলোর কাঠিন্য থেকে বেশি হয়।যেমন তামা নরম ধাতু হলেও তামা ও টিনের সংমিশ্রণে উৎপন্ন ধাতু সংকর কাঁসা তামার তুলনায় অনেক বেশী শক্ত।
  6.  সাধারণ ধাতুর তুলনায় সংকর ধাতু অনেক বেশি নমনীয়, ঘাতসহ এবং প্রসারণশীল।
  7.  পারদ সংকর বা অ্যামালগাম : কোন সংকর ধাতুর একটি উপাদান যদি পারদ হয়, তবে সেই ধাতু সংকরটিকে অ্যামালগাম বা পারদ সংকর বলা হয়। বিভিন্ন পারদ সংকরকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন
    • রুপোর পারদ সংকর দাঁতের চিকিৎসায়
    • টিনের পারদ সংকর আয়না তৈরীর জন্য
    • দস্তার পারদ সংকর বৈদ্যুতিক ব্যাটারীতে ব্যবহার করা হয়।

কয়েকটি বিশিষ্ট ধাতু-সংকর, তার উপাদান ও ব্যবহার

ধাতু সংকরউপাদানব্যবহার
পিতল
[Brass]
তামা [Cu] 60-80%
দস্তা [Zn] 40-20 %
বাসনপত্র, নল, টেলিস্কোপ, মূর্তি, ব্যারোমিটার, বিভিন্ন যন্ত্রের অংশ, জলের কল প্রভৃতি প্রস্তুতিতে পিতলের ব্যবহার হয়
কাঁসা
[Bell Metal]
তামা [Cu] 80%
টিন [Sn] 20%
থালা, গ্লাস, মুদ্রা, বাটি, মূর্তি, ঘন্টা প্রভৃতি প্রস্তুতিতে কাঁসার ব্যবহার হয়
ব্রোঞ্জ
[Bronze]
তামা [Cu] 75-90%
টিন [Sn] 25-10%
মূর্তি, থালা, যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ, বাসনপত্র, মেডেল, মুদ্রা প্রভৃতি প্রস্তুতিতে ব্রোঞ্জের ব্যবহার হয়
অ্যালুমিনিয়াম-ব্রোঞ্জ
[Aluminium-Bronze]
তামা [Cu] 90%
অ্যালুমিনিয়াম [Al] 10%
মূর্তি, থালা, ফটোফ্রেম শৌখিন দ্রব্য প্রভৃতি প্রস্তুতিতে অ্যালুমিনিয়াম-ব্রোঞ্জের ব্যবহার হয়
জার্মান সিলভার
[German Silver]
তামা [Cu] 50%
দস্তা [Zn] 30%
নিকেল [Ni] 20%
বাসনপত্র, ফুলদানি ও নানা রকম শৌখিন দ্রব্য প্রস্তুতিতে জার্মান সিলভারের ব্যবহার হয়
ডুরালুমিন
[Duralumin]
অ্যালুমিনিয়াম [Al] 95%
তামা [Cu] 4%
ম্যাগনেসিয়াম [Mg] 0.5%
ম্যাঙ্গানিজ [Mn] 0.5%
মোটর গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিমানের কাঠামো নানা রকম যন্ত্রাংশ প্রস্তুতিতে ডুরালুমিন ব্যবহার হয়
ম্যাগনেলিয়াম
[Magnelium]
অ্যালুমিনিয়াম [Al] 98%
ম্যাগনেসিয়াম [Mg] 2%
তুলাদন্ড, বিমানের কাঠামো এবং নানা রকম যন্ত্রাংশ নির্মাণে ম্যাগনেলিয়াম ব্যবহার হয়
স্টেইনলেস স্টিল
[Stainless Steel]:
লোহা [Fe] 80-90%
ক্রোমিয়াম [Cr] 10-20%
ট্যাপ, বাসনপত্র, সাইকেলের যন্ত্রাংশ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ইত্যাদি নির্মাণে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার হয়

এরকম আরো কিছু পোস্ট :

বিভিন্ন ভৌত রাশির একক – SI ও CGS পদ্ধতিতে

General Science in Bangla – 35 Questions & Answers RRB Special

ভারতের বিভিন্ন শহরের পূর্ব নাম ও বর্তমান নাম

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Alert: Content is protected !!