‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বীকৃতি পেল কোভালাম ও ইডেন সমুদ্রসৈকত

Rate this post

‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বীকৃতি পেল কোভালাম ও ইডেন সমুদ্রসৈকত

সম্প্রতি ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বীকৃতি পেল ভারতের দুটি সমুদ্রসৈকত। ২০২১ এর ২২শে সেপ্টেম্বর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে তামিলনাড়ুর কোভালাম সমুদ্রসৈকত এবং পদুচেরির ইডেন সমুদ্রসৈকত। এই নিয়ে ভারতের মোট ১০টি সমুদ্রসৈকত ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ স্বীকৃতি লাভ করলো। এর পূর্বে ২০২০ সালের ৬ই অক্টোবর ভারতের ৮টি সমুদ্রসৈকত একসাথে এই মর্যাদা লাভ করেছিল। বিশ্বে ভারত একমাত্র দেশ, যেখানে একসাথে ৮টি সমুদ্রসৈকত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছিল। ২০২০ সালের ৬ই অক্টোবর এই আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জনকারী সমুদ্রসৈকতগুলি হলো – কেরালার কাপ্পাড সৈকত, গুজরাটের শিবরাজপুর সৈকত, দিউ এর ঘোঘলা সৈকত, কর্ণাটকের কাসারকোড এবং পাডুবিডরি সৈকত, অন্ধ্রপ্রদেশের রুশিকোন্ডা সৈকত, ওড়িশার গোল্ডেন সৈকত এবং আন্দামান নিকোবরের রাধানগর সৈকত।

ডেনমার্কের ফাউন্ডেশন ফর এনভায়রনমেন্ট এডুকেশন (FEE) প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সমুদ্রসৈকতকে ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ শংসাপত্র দান করে থাকে। মূলত সমুদ্র জলের স্বচ্ছতা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, সাসটেনাবল ডেভেলপমেন্ট, পর্যটকদের নিরাপত্তার মতো ৩৩টি বিশেষ মানদন্ডের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে এই শংসাপত্র। বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকতকে এই মানদন্ডের ভিত্তিতে বিচার করার জন্য রয়েছে এক বিশেষজ্ঞ কমিটি। আন্তর্জাতিক এই বিশেষজ্ঞ কমিটিতে রয়েছে ডেনমার্কের FEE, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা, ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম, IUCN এবং ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞরা।
১৯৮৫ সালে সূচনা হয় ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ প্রোগ্রামের। প্রথম দিকে কেবলমাত্র ইউরোপের সমুদ্রসৈকতগুলির জন্যই এই প্রোগ্রাম শুরু করা হয়। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে বিশ্বের সমস্ত সমুদ্রসৈকতকে এই প্রোগ্রামের বিবেচনাধীন করা হয়।

এই পুরস্কার পেয়ে স্বভাবতই খুশি ভারতের পরিবেশ মন্ত্রক। ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক ২০১৮ সালের জুন মাসে ১৩টি উপকূলীয় রাজ্যে ‘সমুদ্রসৈকত বাঁচাও’ নামে এক প্রচার অভিযান শুরু করে। পরবর্তীকালে পরিবেশ মন্ত্রক সমুদ্রসৈকতের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে ‘বিমস'(Beach Environment and Aesthetics Management Services ) নামে এক প্রকল্পের সূচনা করে। ‘বিমস’ এর মূল লক্ষ্য হলো সমুদ্র জলে দূষণের মাত্রা কমানো, সৈকতের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, উপকূলীয় ভূমির বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। মূলত পরিবেশ মন্ত্রকের এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের কারণেই ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশগত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। ‘ব্লু ফ্ল্যাগ’ কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক এবং ইন্টিগ্রেটেড পোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্টের যৌথ প্রয়াসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

Scroll to Top
error: Alert: Content is protected !!